ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুরের বাগড়ি গ্রামের নুরানী কিন্ডার গার্ডেন মাদ্রাসা ও হিফজখানায় শিক্ষক কর্তৃক ২০ শিশু শিক্ষার্থী জোর করে লাইনে দাঁড় করিয়ে চুল কেটে দেয়ার ঘটনার ২দিন পার হলে বিচার হয়নি অভিযুক্ত শিক্ষকের।
এ ঘটনায় অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ২ দিন পার হলেও সুষ্ঠ বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী, অভিবাবক ও এলাকার মানুষ। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষোভ থেকে বাঁচতে চুলকাটা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে চাপ দিয়ে অনেক শিক্ষর্থীর মাথা ন্যড়া করে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, সামনে পরীক্ষা এই অজুহাতে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক রবিউল ইসলাম গত দুই দিন ধরে সকল শিক্ষার্থীকে চুল কেটে আসতে বলে। অনেক শিক্ষার্থীই চুল কেটে না আসায় মঙ্গলবার বিকালে ওই শিক্ষক নিজেই কাঁচি দিয়ে ২য় ও ৩য় শ্রেণির ২০জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেন। এ সময় অনেক শিক্ষার্থীই ভয়ে কান্না শুরু করে। পরে বাড়িতে গেলে জানাজানি হলে এ ঘটনাকে ছাত্র নির্যাতন বলে মনে করে অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিবাবকরা মাদ্রসায় গিয়ে চুল কাটার কারণ চানতে চায়। অভিযুক্ত শিক্ষক অভিবাবকদের সাথেও খারাপ আচারণ করে। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়ে রয়েছে শিক্ষক রবিউল ইসলাম।
এ ঘটনার সাথে অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম ছাত্রদের চুল কেটে দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ২য় ও তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রদের মাথার চুল বড় হয়ে যাওয়ায় কয়েক দিন থেকেই তাদের বাড়ি থেকে চুল কেটে আসতে বলা হয়। কিন্তু তারা চুল না কাটায় কেচি দিয়ে এক পোচ করে চুল কাটা হয়েছে যাতে বাড়িতে গিয়ে চুল কেটে আসে।
এ বিষয়ে নুরানী কিন্ডার গার্ডেন মাদ্রাসা ও হিফজখানার প্রধান শিক্ষক (বড় হুজুর) জয়নাল আবেদীন জানান, ঘটনা শুনে তাকে মাদ্রসায় ডেকে এনে গালমন্দ করেছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনির উল গিয়াস জানান, এ ঘটনায় কোন অভিযোগ না আসায় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।