নিলয় সোবহান
ইমরান এইচ সরকারকে আওয়ামী লীগের নানাবিধ সমর্থকেরা রাজাকারের পক্ষের বলছেন, তাদের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন। উত্তর চাই, উত্তর দেবার হিম্মত আছে তাদের?
তারা বলছেন, তিনি শফিক রেহমানের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপি ও জামাতের পক্ষে কাজ করছেন। একটি ছেলেকে দেখলাম ইমরান এইচ সরকারকে জবাই করবার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে।
যেই ইমরান ভাই শাহবাগের গণজাগরণকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন এবং যিনি গত ৩টি বছরে জাতীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে উচ্চকিত ছিলেন ও জনতার পাশে ছিলেন তাঁকে আজকে এসব শুনতে হচ্ছে ও সহ্য করতে হচ্ছে। এই পুরো ব্যাপারটিতে আমি যতটা বিস্মিত হয়েছি, তার থেকেও কয়েকগুণ বিস্মিত হয়েছি আওয়ামী লীগ, তার সমর্থক কিংবা নানাবিধ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের “অন্য বিষয়গুলো” নিয়ে একটি কথাও না বলাতে।
কই তাঁরা তো প্রশ্ন তোলেন নি কখনো যে, আওয়ামী লীগ নেতা কাইয়ুম রেজা চৌধুরী কি করে সাকার সাক্ষী হয়? কি করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সাকার সাক্ষীর জন্য মনোনীত হন?
কি করে ফরিদপুরের রাজাকার নুরু মিয়ার নামে আজও পানির ট্যাংকি এলাকায় একটি রাস্তার নামকরণ হয়, ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়? কি করে নুরু মিয়া রাজাকারের ছেলে মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী হয়, এমপি হয় কিংবা বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্নীয় হয়? কি করে তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দেশের বিরোধী ভূমিকার অভিযোগ থাকলেও তদন্ত হয় না?
কি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফের হাত ধরে শত শত জামাতীরা আওয়ামী লীগে যোগ দেয়? কি করে একজন মুক্তিযোদ্ধা সচিব হান্নানের দূর্ব্যবহারে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়? সেই সচিব জুতা পায়ে সৌধে ফটো সেশন করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না?
কি করে শেখ সেলিম রাজাকার মতিউর রহমান নিজামীকে দেখতে হাসপাতালে যান? কেন শেখ সেলিমের বেয়াই মুসা বিন শমসেরের একাত্তরের ভূমিকার তদন্ত হয় না?
এসব প্রশ্ন করতে তো আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের দেখি না! কেন দেখি না? সজীব ওয়াজেদ জয়কেও তো এসব বিষয় নিয়ে উচ্চকিত হতে দেখি না। কেন দেখি না? কেন তিনি বলেন না যে, মুসা বিন শমসেরের আত্মীয়দের আনফ্রেন্ড করুন, কেন তিনি নুরু রাজাকারদের পরিবারকে আনফ্রেন্ড করবার ডাক দেন না? কেন?
আরো নিবন্ধ:
আওয়ামী লীগ রূপান্তরিত হবে ওলামা লীগে || সুষুপ্ত পাঠক