অমর ডি কস্তা, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম ধাপে আগামী ২৮মে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪ নং নগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে সপ্তাহব্যাপী চলছে নানারকম জল্পনা-কল্পনা ও নাটকীয়তা।
আর এই নাটকীয়তার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে উপজেলার একমাত্র নারী মনোনয়ন প্রত্যাশী স্থানীয় মহিলা আ’লীগ নেত্রী নিলুফা ইয়াসমিন ডালু, যার নাম উপজেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রে না পাঠালেও সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের সুবাধে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী পরিষদ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সুনজরে আসেন তিনি।
যার ফলে দলীয় প্রধানের কার্যালয়ে ওই নারী মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ডেকে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত হওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রে প্রেরিত তিন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং নানা ধরনের দেন-দরবার নিয়ে কেন্দ্রে ভীড় করেন তারা। মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শামসুজ্জোহা সাহেব রীতিমতো কয়েক’শ লোক হাজির করে, সাংবাদিক ডেকে মনোনয়ন লাভের দাবী জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিরও আয়োজন করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল জলিল প্রামানিক জানান, নগর ইউনিয়নে তৃণমুল নির্বাচন করে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন সম্ভব না হওয়ায় তিনজন যথাক্রমে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শামসুজ্জোহা সাহেব, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ইয়াসিন আলী সরকার ও সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেনের নাম কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নিতে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে কেন্দ্রে এই বিষয়ে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হলে দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে নিলুফার ইয়াসমিন ডালুর নামটি কেন আসে নাই জানতে চেয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী পরিষদের দুইজনকে দায়িত্ব দেন বিষয়টি দেখার জন্য। পরবর্তীতে গত বুধবার কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে ঢাকায় দেখা করে সব কাগজ-পত্র জমা দেন ওই নারী প্রার্থী। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার (২৪/৪/২০১৬) এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবে কেন্দ্রীয় কমিটি।
উল্লেখ্য, ‘বড়াইগ্রাম উপজেলার একমাত্র নারী প্রার্থী নিলুফার ইয়াসমিন ডালু’ শিরোনামে সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন নারী সংগঠন, আওয়ামী কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য সহ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি গোচর হয়।