Posted in আইন-আদালত, প্রচ্ছদ পাতা

রাবি অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী খুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।রাজশাহী নগরীতে বাড়ির কাছেই এই অধ্যাপককে মোটর সাইকেলে আসা দুই যুবক কুপিয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহদাত হোসেন।

অধ্যাপক রেজাউল লেখালেখিতে করতেন, যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

শহরের বোয়ালিয়া থানা এলাকার শালবাগানের সপুরা এলাকায় থাকতেন অধ্যাপক রেজাউল। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ির কাছেই বটতলা মোড়ে আক্রান্ত হন তিনি।

ওসি শাহদাত বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বাস ধরার জন্য অধ্যাপক রেজাউল করিম শালবাগান মোড়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে আসার পরই দুজন যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে ঘাড়ে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”

বাগমারার দরগাবাড়ি এলাকায় এই শিক্ষকের পৈত্রিক বাড়ি। শালবাগানের সপুরা এলাকায় থাকতেন তিনি। তার ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। মেয়ে রেজোয়ানা হাসিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী।

রেজাউল করিমের স্ত্রী হোসনে আরা বলেন, “ভালো মানুষ বাসা থেকে বের হয়ে গেল। এরপর রাস্তার মধ্যে খুন হলো। তাকে কে বা কারা খুন করলো?” তার সঙ্গে কারো শক্রতা বা কোনো ঝামেলা ছিল না বলে দাবি করেনি তিনি।

নিহতের ভাই সাজিদুল করিম বলেন, অধ্যাপক রেজাউল ‘কোমলগান্ধার’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক এবং ‘সুন্দরম’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা ছিলেন।

তার ভাইকে কেউ কখনও কোনো ধরনের হুমকি দিয়েছিল কি না, তা জানাতে পারেনি সাজিদুল করিম। ‘সুন্দরম’ এর সভাপতি হাসান রাজা বলেন, “স্যার খুব ভালো সেতার বাজাতেন। তিনি শালবাগানে একটি গানের স্কুল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন।”

রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়ার শালনগরের বটতলা মোড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডস্থলে তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি বা মামলা বিষয়ে সন্ধ্যায় জরুরি সভা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো.শহীদুল্লাহ্।

লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি শাহদাত। রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার সুশান্ত চন্দ্র রায় জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুই বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন হন আরেক অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম। সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শফিউলকে হত্যার পর জঙ্গিদের দায় স্বীকারের খবর এলেও পরে পুলিশের তদন্তে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ধারণাটি নাকচ করা হয়।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন অধ্যাপক শফিউল। তারও বেশ আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুজন শিক্ষক অধ্যাপক এম ইউনুস এবং অধ্যাপক এস তাহের হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

লেখক:

online news portal

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s