রাজশাহী নগরীতে নিজ ব্যবসায়িক কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা গুলিতে নিহত হয়েছেন। রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীল গৌরহাঙ্গা এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জিয়াউল হক টুকু জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক প্রশাসক।
এদিকে, টুকুর এক ব্যবসায়িক পার্টনার এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে দাবি করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আসাদ বলেন, অফিসে টুকু ছাড়াও নয়ন, জসিম, রবিউল ও তরিকুল নামের আরও চারজন ছিলেন। এদের মধ্যে তিনজন বাইরে এবং নয়ন ও টুকু ভিতরে ছিলেন।
“গুলির শব্দ হওয়ার পর নয়ন দ্রুত বের হয়ে যান। ওই সময় তিনি অসাবধনতাবশত গুলি বের হয়ে টুকুর গায়ে লেগেছে বলে চলে যান।” পরে রবিউল, জসিম ও তরিকুল তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান আসাদ।
এটি হত্যাকাণ্ড দাবি করে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমরা নয়নকে খুঁজছিলাম। রাতে তরিকুলের মোবাইলে নয়নকে পাওয়া যায়।
“তিনি (নয়ন) স্বীকার করে বলেন, তার হাতেই ছিল টুকুর লাইসেন্স করা পিস্তল। অসাবধানতাবশত তার হাত থেকে গুলি বের হয়ে যায়।”
আসাদ বলেন, একই কথা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকেও নয়ন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, নয়নের বাড়ি ঢাকায়। টুকুর ঢাকায় ঠিকাদারি কাজ চলছে। নয়ন ওই কাজের পার্টনার। কাজ নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন আসাদুজ্জামান আসাদ।
এদিকে, নগর পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বোয়ালিয়া থানার এসআই মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে টুকুর লাইসেন্স করা পিস্তল ও রক্তমাখা তোয়ালে জব্দ করা হয়েছে।
“পিস্তল ও রক্তমাখা তোয়ালে টুকুর চেয়ারের উপর ছিল। তার বুকের ডান পাশে গুলি লেগেছে। নিজের হাতে পিস্তল থাকলে সেখানে গুলি লাগার কথা নয়।”
মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার পর নয়ন পালিয়ে গেছেন। তাকে আটক করার জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। এ ব্যপারে রবিউল, জসিম ও তরিকুলকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা দ্রুত তদন্ত করে বের করার জন্য পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম।
তিনি বলেন, ওই সময় তারা নগর ভবনে সভা করছিলেন। তারা সেখান থেকে গুলির শব্দ শুনেছেন।
শনিবার সকালে এই রাজশাহীতেই খুন হন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে তার বাড়ির কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।