Posted in বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জ শহরের পূর্বদাশরায় একগুচ্ছ কৃষ্ণচুড়া গাছের অপরূপ দৃশ্য

মানিকগঞ্জ হতে নজরুল ইসলাম: সনাতন ধর্মের উত্তম পুরুষ (অবতর) শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার যুগল মিলন হয় কৃষ্ণচুরা গাছের তলায় আর প্রেমের যাত্রা শুরু হয় কদম তলে। হাজার বছর ধরে টিকে আছে মানুষের মুখে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কাহিনি। সেই সূত্র ধরেই বিভিন্ন বর্ণ ও ধর্মের মানুষ কৃষ্ণচড়া ও কদম গাছকে প্রেমের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন, সম্মান করেন, পুজা করেন। তরুণ-তরুণীরা এখনো কৃষ্ণচড়া গাছের তলে বসে (সখা-সখির) আড্ডা, গল্প ও ভাব বিনিমযে মত্ত থাকে। এছাড়াও এই গাছে বিশেষ করে বৈশাখ মাসে তার ফুল ফুটে এবং অপরূপ সৌন্দর্য্য ছড়িয়ে প্রকৃতিকে করে সুশোভিত। এই দৃশ্য দেখে চারপাশে সবাই থাকে আনন্দে। প্রকৃতির এই অপরূপ লীলা হাজার বছরের লোকায়ত চর্চা টিকে থাকবে যুগ যুগ ধরে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তারই একটি অপরূপ দৃশ্য চোখে পড়ে মানিকগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক মত্ত মঠের পাশ দিয়ে পূর্বদাশরা গলিতে। একসাথে পর পর তিনটি কৃষ্ণচড়া গাছে একইভাবে ফুল ফুটে মনোরম দৃশ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে চারপাশে। বিকেল বেলা এখানে ভীড় করে তরুণ-তরুণীরা, অবিভাবক ও শিশুরা মনোরম এই দৃশ্য দেখার জন্য। কৃষ্ণচড়া গাছ ছাড়াও রয়েছে কয়েকটি পুরাতন আমগাছ, খেজুরগাছ, আঁকাবাঁকা কয়েকটি নিরব রাস্তা। বিনোদনের জন্য সামান্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে এলাকার বিনোদনপ্রিয় মানুষ।

পূর্বদাশরা গ্রামের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ (৪৪) বলেন, আমার বাড়িতে একটি কৃষ্ণচড়া গাছ আছে। খুবই সুন্দর বিধায় আমি এটি কাটি নাই, ঘর তুলেছি গাছের সামনে। ঘরের চালে ফুলের শোভা পাচ্ছে, যা আমাকে অনেক আনন্দ দেয়। তিনি আরো বলেন, এই গাছ সাধারণত এমনিতেই হয়। তবে এখন এই গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই গাছের অনেক ঔষুধি গুণও রয়েছে, যা অনেকেই ব্যবহার করে উপকৃত হয়। এই গাছ আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে, এই গাছের গুরুত্ব তরুণদের মাঝে বলতে হবে এবং বেশি বেশি কৃষ্ণচড়া গাছ লাগানোর কথা বলতে হবে। তাহলে আগামী প্রজন্ম প্রাকৃতিক পরিবেশে ভালভাবে বেচে থাকবে। এটাই আমার প্রত্যাশা।

লেখক:

online news portal

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s