Posted in বাংলাদেশ

প্রাকৃতিক রক্ষা কবচ খেজুর গাছ বনাম খেজুর গুড় ও দেশী খেজুর

মানিকগঞ্জ হতে নজরুল ইসলাম: এক সময় মানিকগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঝিটকার হাজারি গুড়সহ জেলার খেজুরে গুড়ের কদর ছিল স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। বর্তমানে অতিমুনাফাখোর গুড় উৎপাদনকারি ও ব্যবসায়ীদের কারণে এ জেলার খেজুর গুড় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ভেজাল গুড়ে হাটবাজার সয়লাব হয়ে গেছে। এখনো গুড়ের মৌসুম না থাকলেও বাজারে গুড় পাওয়া যায়।

পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমানে জেলার আশেপাশে বিশেষ করে ঝিটকা অঞ্চলে খেজুর গাছের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তদুপুরি অনেক খেজুর গাছ নানাবিধ কারণে অনাবাদি রয়ে যাচ্ছে। ফলে সুস্বাদু খেজুর গুড় এখন দুর্লভ হয়ে উঠেছে। আর একটি মজার বিয়য় হলো, খেজুরের রস দেয়া শেষ হলে গাছে খেজুর ধরে বৈশাখের শেষে ও জ্যৈষ্ঠ মাসে খেজুর পাকতে থাকে লাল ও হলুদ বর্ণ ধারণ করে। পাড়ার শিশু ও বালকদের মাজার খাবার ও আনন্দের বিষয় খেজুর গাছে ঢিল মারা, লাঠি দিয়ে খোচা মারা ও গাছে উঠে খেজুর পাড়া। এই দৃশ্যগুলো এখন বিলিন হয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ না থাকার কারণে।

বর্তমানে একক পরিবারের ঘরমুখি ছেলে-মেযেরা বাবা-মাকে ছাড়া বাইরে আসার সাহস পায় না, বিধায় গাছের খেজুরগুলো এমনিতেই পড়ে থাকে। অন্যদিকে খেজুর পাকলে কাক ও শালিকের আনাগোনা দেখা যেত। বর্তমানে গাছপলার উপর রাসায়নিক ব্যবহরের ফলে পাখি মারা যাচ্ছে, ফলে পাখিগুলো কেউ এখন খেজুর গাছে বসতে দেখা যায না। দৃশ্যটি চোখে পড়ে জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র সিদ্দিক নগরের পাশে পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে খেজুর গাছ কয়েকটি বাধায় খেজুর ধরেছে, এখনো পুরোপুরি পাক ধরেনি।

2016-04-27_211531খেজুর গাছকে আকড়ে ধরে আছে একটি পাকুড় গাছ পুকুরের পারে। এই দৃশ্যটি দেখার মতে হলেও নেই কোন পাখি, নেই ছেলেমেয়েদের আনাগোনা। পাশের পুকুর পরিত্যক্ত হয়ে আছে রোদ্রের খরতাপে। প্রাকৃতিক উৎসগুলো নিযে ভাবার কারো সময় না থাকলেও পূর্ব দাশরা গ্রামের লাবলু মিয়া (৪৪) বলেন, আমরা ছোট বেলায় অনেক দুষ্ট ছিলাম, রাস্তার পাশে খেজুর গাছের রস, পাকা খেজুর, কাঁচা-পাকা আমসহ বিভিন্ন ফল চোখে ধরলে একা ভোগ করতাম না, বন্ধুদের নিয়ে খেতাম। অনেক আনন্দ পেতাম সেই দৃশ্যগুলো মনে পড়ে।

আমার মতে বর্তমান ছেলেমেয়েরা অনেক ভাল প্রচুর লেখাপড়া করে বিকেলেও প্রাইভেট পড়তে হয়। বাইরে আসার সুযোগ নেই আর একক পরিবারের এক-দুজন সন্তান হওয়ার কারণে তারা এক ধরনের কৃত্রিমভাবে মানুষ হচ্ছে প্রকৃতির আলো বাতাস ও শিক্ষা হতে বঞ্চিত। এটা দূর করে তাদেরকে মুক্ত করতে পারলে তারা আরো ভাল করবে। আর প্রাকৃতিক উৎসগুলোকে রক্ষা করার জন্য এই প্রজন্মকেই দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবেশের নানাবিধ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদেরকে খেজুর, নারিকেল, কৃষ্ণচুড়া, কদম, তাল ও বটগাছসহ প্রাকৃতিক গাছপালা রোপনসহ প্রাকৃতিক উৎসগুলো রক্ষায় আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক:

online news portal

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s