মানিকগঞ্জ হতে নজরুল ইসলাম: ‘সাম্রাজ্যবাদ-জঙ্গিবাদ, লুটপাটের দুর্গ ভাঙ্গ- তারুণ্যের দীপ্ত স্লোগানে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়’ -এই স্লোগানকে ধারন করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মানিকগঞ্জ জেলা সংসদের ২১তম জেলা সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয় জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে। উদ্বোধন ঘোষণা করেন- সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড আজাহারুল ইসলাম আরজু।
তিনি ছাত্র ইউনিয়নের এই সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দেশের এই সংকট সমাধানে ছাত্র ইউনিয়নকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। একটি বিশাল মিছিল শহীদ রফিক সড়ত প্রদক্ষিণ করে। তারপর মানিকগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতি মিলনায়তনে আলচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা সংসদের সভাপতি মো. নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ রক্ষা কমিটির সংগঠক বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স।
তিনি বলেন, দেশ আজ বহুমুখী রোগে আক্রান্ত, রুগ্ন রাজনীতি, রুগ্ন সমাজ ব্যবস্থা, এবং বিরাজনীতিকরনের ধারায় চলছে রাষ্ট্রের সকল কাঠামো, ছাত্র সংসদ নাই, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নাই। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রশাসনের হাতে জিম্মি। এভাবে আর ১৫-২০ বছর চলতে থাকলে মেধাশূন্য হবে এবং নেতৃত্ব শূন্য হবে বাংলাদেশ। বাজার অর্থনীতি আমদেরক গিলে খাচ্ছে আরো খাবে। আমরা যে স্বাধীন জাতি সেটি বেমারুং হবে, আবার সেই পরাধীনতার খপ্পরে ঘুরপাক খাচ্ছি আরো খেতে হবে। মুক্তি পেতে হলে ছাত্র ইউনিয়নকে শক্তিশালী করতে হবে। নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে হবে। ইতিহাস সৃষ্টি করার এখনই সময়।
বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জি এম জিলানি শুভ। তিনি বলেন, আপনারা জানেন দেশ কেমন চলছে, এটি একটি হিরক রাজার দেশ। উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ। এটি মেনে নেয়া যায় না, আমরা নীল পতাকার সৈনিকেরা এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেব না। ইতিহাস সৃষ্টি করেছে আমদের পূর্বসুরিরা, আমাদের সময় এখন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার। আমাদের রক্তে লাখ শহীদের রক্ত বহমান। আমরা শহীদ তাজুল, বীপ্রদাস, রাজুর সহযোদ্ধা, আমরা পরাজয় মানব না। আপনারা জানেন, এটি নয়া জামানার ছাত্র ইউনিয়ন। আমরা সমাজতান্ত্রিক দুনিয়া আহত হওয়ার পরও এখন নীল পতাকার ঝান্ডা ধরে লড়াই করছি। নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছি বর্ষবরণে যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন ও শিক্ষা-বাণিজ্য বন্ধের আন্দেলনসহ গণমুখি বিজ্ঞানভিত্তিক একই ধারার শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের লড়াই অব্যাহত আছে। আমরা সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ প্রগতিশীল ছাত্রদেরকে নীল পতাকা তলে আসার আহবান জানাই।
বক্তব্যা রাখেন প্রবীন কৃষক আন্দোলনের নেতা কমরেড বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সংগ্রামী আহবায়ক অধ্যাপক শ্যামল কুমার সরকার, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি বিমল রায়, সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, যুব ইউনিয়ন জেলা সাধারণ সম্পাদক আরশেদ আলী মাস্টার, কৃষক সমিতি জেলা সভাপতি কমরেড মজিবর রহমান মাস্টার প্রমুখ।
আলোচনা শেষে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল শেষে বিষয় নির্বাচনী কমিটি নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করেন। সভাপতি এম আর লিটন, সাধারণ সম্পাদক এইচ এন নাজমুল হাসান বিজয়, সাংগঠনিক সম্পাদক কায়সার আহমেদ, কোষাধাক্ষ আনোয়ার রহমান দুর্জয়সহ ২৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠিত হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি লাভলী মীর, আবদুস সোবাহান, সহ-সাধারণ সম্পাদক রনি সরকার, সম্পা আক্তার, দপ্তর সম্পাদক আশিকুর রহমান সোহান, সঙস্কৃতিক সম্পাদক প্রীতি রানী দাশ, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক দুর্জয় ইসলাম হিমেল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সজিব মিয়া, সমাজকলাণ সম্পাদক মো. জামাল মিয়া, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. রাজীব হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল কাদের, স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুদ।
সদস্যবৃন্দ-
মো. নুরুজ্জামান, সুজন মিয়া, জুয়েল রানা, চিন্বয় তরফদার, শাহীনুর রহমান শাহীন, বিপাশা আক্তার, উসমান গনি, সীমা আক্তার প্রমুখ।